This is Bengali Version of

The Gospel of St. Thomas

(Translated by Dr. Mortuza Khaled

Professor, Department of History, University of Rajshahi, Banlgadesh)

 

সাধু টমাসের সুসমাচার

 

(বাংলা রূপান্তর: ড. মর্ত্তুজা খালেদ, প্রফেসর, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ)

 

 

 

এগুলি গোপন বাণী যা জীবিত যীশু বলেছেন এবং ডিডিমাস জুডাহ টমাস লিখে গেছেন।

 

১

এবং তিনি বললেন,

“এ ব্যাখ্যাগুলি যে শ্রবণ করবে

তার মৃত্যুর অভিজ্ঞতা হবে না।”

 

২

যীশু বলেছেন,

“যে খুঁজছে তাকে খুঁজতে দাও ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে খুঁজে পায়।

সে যখন খুঁজে পাবে তখন সমস্যায় পড়বে,

যখন সে সমস্যায় পড়বে

সে বিস্মিত হবে এবং সবার উপর কর্তৃত্ব করবে।”

 

৩

যীশু বলেছেন,

“যদি তারা তোমাকে উৎসাহিত করে বলতে, 'স্বর্গ রাজ্য রয়েছে আকাশে,

তখন আকাশের পাখি তোমার নিকট আসবে।

যদি তারা তোমাকে বলে, 'তা সাগরে',

তখন মাছ তোমার কাছে আসবে।

কিন্তু স্বর্গ রাজ্য রয়েছে তোমার ভিতরে এবং তা রয়েছে তোমার বাইরে।

যখন তুমি নিজে নিজেকে জানবে, তখন তুমি জ্ঞানী ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

এবং তুমি উপলব্ধি করবে যে তুমি জীবন্ত পিতার সন্তান।

কিন্তু তুমি যদি নিজে নিজেকে না জান,

তুমি বাস করবে দারিদ্র্যতার মাঝে এবং তুমি নিজে হবে দরিদ্র্য।

 

৪

যীশু বলেছেন,

“একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ

ইতস্তত করেনা একটি ছোট এমনকি সাত দিন বয়সী শিশুকে জিজ্ঞাসা করতে,

জীবনের স্থান সম্পর্কে

এবং সে বেঁচে থাকে।

অনেকে যারা প্রথম তারা হবে শেষ

এবং তারা হবে নি:সঙ্গ একজন।

 

৫

যীশু বলেছেন,

“জানো যা তোমার সামনে রয়েছে

আর যা তোমার কাছ থেকে গোপন রয়েছে তা উন্মোচিত হবে।

সত্যকে লুকায়িত থাকতে দিও না।”

 

৬

তার শিষ্যগণ তাকে প্রশ্ন করলো এবং তাকে বললো,

“তুমি কি প্রথমে আমাদের চাও?

আমরা কিভাবে তার মূল্য পরিশোধ করবো?

আমরা কি দয়া ও দাক্ষিণ্য ত্যাগ করবো?

আমরা কি খাদ্য গ্রহণ করবো?”

 

যীশু বললেন,

“মিথ্যা বলো না, যা ঘৃণা করো তা করো না,

স্বর্গে সকল বিষয় উন্মুক্ত।

যা লুকায়িত রয়েছে তা লুকায়িত থাকবে না।

কিছুই আবৃত থাকবে না সব কিছুই অনাবৃত হবে।”

 

৭

যীশু বলেছেন,

 “আর্শীবাদ সিংহকে আবৃত করে মানুষে পরিণত করে।

আর মন্দকাজ মানুষকে গ্রাস করে সিংহে রূপান্তর করে।” 

 

৮

এবং তিনি বললেন,

“রাজ্য হলো জ্ঞানী মৎসজীবী যে তার জাল সমুদ্রে ফেলে

এবং তা সমুদ্র থেকে টেনে তুলে দেখে তা ছোট মাছে পূর্ণ।

তার মধ্যে রয়েছে সুন্দর বড় এক মাছ।

সে সব ছোট মাছ সমুদ্রে নিক্ষেপ করে

কোন দ্বিধা না করে সে শুধু গ্রহণ করে বড় মাছটি।

যখন কান শুনতে চায়, তাকে শুনতে দাও। “

 

৯

যীশু বলেছেন,

“এখন কৃষক বাইরে যাবে, এক মুঠো (বীজ) নিয়ে সেগুলো সে ছড়িয়ে দেবে।

এর কিছু রাস্তায় পড়বে,

পাখিরা আসবে ও তা তুলে নেবে।

কিছু পাথরের উপর পড়বে,

তা মাটি পাবে না ও শষ্য উৎপাদন করবে না।

অন্য সব যেখানে নিক্ষেপ করা হবে সেখানে পড়বে।

তারা বীজের শ্বাসরোধ করবে,

উষ্ণতা তাদের গ্রাস করবে।

অন্যগুলি ভাল মাটিতে পড়বে

ও ভাল ফল উৎপাদন করবে

তা মাপে ষাট ও একশ বিশ করে হবে।”

 

১০

যীশু বলেছেন,

“আমি বিশ্বে আগুন দিয়েছি

এবং দেখ, আমি লক্ষ্য রাখছি যতক্ষণ না, তা প্রজ্জ্বলিত হয়।”

 

১১

যীশু বলেছেন,

“স্বর্গ রাজ্য অতিক্রম করছে এবং

কোন একজন তার সাথে সাথে তা অতিক্রম করছে।

মৃতরা জীবিত হবে না,

জীবিতরা মৃত হবে না।

এ সময়ে যখন তুমিও মৃত প্রাণী আহার করেছ

ও তাদের জীবন্ত কিছুতে রূপান্তর করেছ।

যখন তুমি আলোর মধ্যে বাস করবে, তখন তুমি কি করবে?

এক সময় তুমি এক ছিলে

তোমাকে দুইয়ে রূপান্তর করা হয়েছে।

কিন্তু যখন তুমি দুই হয়েছ,

তখন তুমি কি করবে?”

 

১২

শিষ্যরা যীশুকে বললো,

“আমরা জানি যে, আপনি আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন।

তখন আমাদের নেতা কে হবে?”

 

যীশু তাদের বললেন,

“সে অবস্থা যখন হবে তখন তোমরা

সাধু জেমসের নিকটে যাবে,

যার জন্য স্বর্গ এবং পৃথিবীর অস্তিত্ব রয়েছে।”

 

১৩

যীশু তার শিষ্যদের বলেছেন,

“আমাকে তুলনা করো

আর বলো আমি কার মতো।”

 

সিমন পিটার তাকে বললেন,

“আপনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ স্বর্গীয় দূত।”

 

ম্যাথু তাকে বললেন,

“আপনি একজন জ্ঞানী দার্শনিকের মতো।”

 

টমাস তাকে বললেন,

“প্রভু, আমার মুখ বলতে অক্ষম আপনি কার মতো।”

 

যীশু বললেন,

“আমি তোমার প্রভু নই।

কারণ তুমি মাতাল, তুমি হয়েছো বিষাক্ত বসন্তের বুদ বুদ

যা আমি পরিমাপ করেছি।”

 

তিনি তাকে বাইরে পাঠালেন এবং তিন বিষয়ে বললেন।

পরে যখন টমাস তার সাথীদের কাছে ফিরে আসে, তারা তখন তাকে জিজ্ঞাসা করে,

“যীশু তোমাকে কি বলেছিলেন?

 

টমাস তাদের বলেন,

“তিনি আমাকে যা বলেছেন তার একটিও আমি তোমাদের বলি

তবে তোমরা আমাকে পাথর কুঁড়িয়ে তা আমার দিকে ছুঁড়ে মারবে,

সে পাথর থেকে আগুন নির্গত হবে আর তা তোমাদের ভষ্মীভূত করবে।”

 

১৪

যীশু বলেছেন,

“যদি তুমি প্রথম নিজে নিজে পাপ করে থাক

এবং যদি তুমি প্রার্থনা করো, তুমি মাপ পেতে পার।

যদি তুমি দাক্ষিণ্য ত্যাগ কর তবে তুমি তোমার সত্ত্বার ক্ষতি করবে।

যখন তুমি কোন এলাকায় যাবে ও সে অঞ্চলে হাঁটবে,

সেখানকার মানুষ তোমাকে তাদের মাঝে নিয়ে গিয়ে খাদ্য পরিবেশন করবে,

যা গ্রহণ করে তারা সুস্থ থাকে।

তা তোমার মুখে প্রবেশ করে তোমাকে দূষিত করবে না,

কিন্তু যা তোমার মুখ থেকে বেরিয়ে তা কি তোমাকে দূষিত করবে না (?)”

 

১৫

যীশু বলেছেন,

“যখন তুমি একজন কে দেখবে যে কোন নারীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে নাই,

তখন তুমি মাথা নুইয়ে তার উপাসনা করবে।

সেই একজন হলো তোমার পিতা।”

 

১৬

যীশু বলেছেন,

“সম্ভবত মানুষ মনে করে আমি পৃথিবীতে এসেছি শান্তি আনতে।

কিন্তু তারা জানেনা যে, আমি পৃথিবীতে এসেছি বিভক্তি কার্যকর করতে।

অগ্নি,তরবারী ও যুদ্ধ ।

যে গৃহে পাঁচজন রয়েছে

সেখানে তিনজন দুইজনের বিরুদ্ধে এবং দুই জন তিনজনের বিরুদ্ধে,

পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে ও পুত্র পিতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

এবং তারা প্রত্যেকে একা।”

 

১৭

যীশু বলেছেন,

“আমি তোমাদের প্রদান করবো যা কোন চোখ দেখে নাই, যা কোন কর্ণ শ্রবণ করে নাই,

যা কোন হাত স্পর্শ করে নাই, যা কোন কোন মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে নাই।”

 

১৮

শিষ্যগণ যীশুকে বললেন,

“বলুন কিভাবে আমাদের পরিসমাপ্তি হবে।”

 

যীশু বললেন,

“তোমরা তো শুরু আবিস্কার করেছ, তোমরা কেন শেষের অনুসন্ধান করছো ?

যেখানে শুরু সেখানেই থাকবে শেষ।

তাকে আর্শীবাদ যে শুরুতেই দাঁড়াবে,

সে জানবে শেষ এবং সে মৃত্যুর স্বাদ পাবে না।”

 

১৯

যীশু বলেছেন,

“তোমাদের মধ্যে তাকে আর্শীবাদ যে রয়েছে আগে থেকে,

আমার আসার পূর্ব থেকে।

যদি তুমি আমার শিষ্য হও আর আমার কথা শ্রবণ কর

তবে এই পাথরগুলি তোমার সেবা করবে।

তোমার জন্য স্বর্গে পাঁচটি বৃক্ষ রয়েছে

যাতে গ্রীষ্ম বা শীতে কোন পরিবর্তন ঘটে না

এবং তার পাতা ঝরে পড়ে না।

যে এগুলিকে জানে, সে মৃত্যুর স্বাদ পাবে না।”

 

২০

শিষ্যগণ যীশুকে বললেন,

“আমাদের বলুন স্বর্গ কেমন।”

 

তিনি তাদের বললেন,

“এটা শর্ষে বীজের মতো, যা সব বীজের মধ্যে ক্ষুদ্রতম।

কিন্তু যখন কর্ষিত মাটিতে পড়ে

তখন তা বিশাল আকার ধারন করে

এবং তা স্বর্গের পাখীদের আশ্রয় কেন্দ্র হয়।”

২১

মেরী যীশুকে বললেন,

“তোমার শিষ্যরা কেমন?”

 

তিনি বললেন,

“তারা শিশুর মতো যারা বাস করে যে ভূমিতে যা তাদের নয়।

যখন ভূমির মালিক আসবে, তারা বলবে,

'এস আমরা আমাদের জমি ফিরিয়ে দেই,'

তাদের সম্মুখে তারা নগ্ন হবে তা ফিরিয়ে দেবার জন্য,

এবং তারা তাদের জমি ফিরিয়ে দেবে।

সুতরাং আমি বলি, যদি একজন গৃহস্বামী জানেন যে, চোর আসছে

তবে সে লক্ষ্য রাখবে চোর আসার প্রতি

ও তার প্রিয় গৃহে প্রবেশ করে তার সম্পদ চুরি করে নিয়ে যেতে দেবে না।

তোমরা পৃথিবী সম্পর্কে সর্তক থাকবে।

তোমাদের বাহুগুলিকে শক্তিশালী করবে

অন্তত:পক্ষে চোর যেন তোমাদের কাছে আসার কোন পথ না পায়।

যেন তারা দেখতে না পায় কোন স্থান--- যা তোমার অগোচরে রয়েছে।

তোমাদের মধ্যে থাকতে দাও এমন অভিজ্ঞ মানুষ

যে বুঝতে পারে কখন শষ্য পেকেছে,

সে দ্রুত কাস্তে হাতে আসবে ও শষ্য কাটবে।

যখন কর্ণ শুনতে চায় তাকে শুনতে দাও।”

 

২২

যীশু দেখলেন যে শিশুরা স্তন পান করছে। তিনি তার শিষ্যদের বললেন,

“ এসকল শিশুরা এমনভাবে স্তনপান করছে যেন তারা স্বর্গে প্রবেশ করছে।”

তারা তখন তাকে বললো,

“আমরা যদি এই শিশুদের মতো ছোট হই, তবে কি আমরা স্বর্গে প্রবেশ করতে পারবো?”

 

যীশু তাদের বললেন, “যখন তোমরা দুই কে এক করতে পারবে,

যখন তোমরা ভেতরকে বাইরের মতো এবং

বাহিরকে ভেতরের মতো করতে পারবে

এবং উপরকে নীচের মতো,

এবং যখন তোমরা পুরুষ আর নারীকে এক করতে পারবে,

যেন পুরুষ পুরুষ নয়, নারী যেন নারী নয়;

যখন তোমরা চোখের জায়গায় চোখ,

হাতের জায়গায় হাত,

পায়ের জায়গায় পা,

প্রতিচ্ছবির স্থলে প্রতিচ্ছবি

তখন তোমরা প্রবেশ করতে পারবে (স্বর্গে)।

 

২৩

যীশু বললেন,

“ আমি তোমাদের বেছে নিয়েছি হাজারের মধ্যে থেকে একজন,

এবং দশ হাজারের মধ্যে থেকে দুইজন।

এবং তারা সবাই দাঁড়াবে একজনের মতো। “

 

২৪

তাঁর শিষ্যরা বললো, “আমাদের সে জায়গা দেখাও যেখানে তুমি আছো,

আমাদের জন্য এটা খোঁজা প্রয়োজন।”

তিনি তাদের বললেন,

“যার কান আছে তাকে শুনতে দাও।

সেখানে আলো দেখা যায় যেখানে একজন মানুষের আলো রয়েছে

এবং সে আলোকিত করেছে সারা বিশ্বকে।

যদি সে আলোকিত না হয় তবে সে অন্ধকারে রয়েছে।”

 

২৫

যীশু বললেন,

“তোমার ভাইকে তোমার আত্মার মতো ভালবাস,

তাকে পাহারা দাও চোখের মণির মতো।”

 

২৬

যীশু বললেন,

“তুমি তোমার ভাইয়ের চোখে ক্ষুদ্র টুকরা দেখতে পাচ্ছ

কিন্তু তোমার চোখের বড় বড় টুকরা দেখতে পাচ্ছো না।

যখন তুমি নিজের চোখ থেকে বড় টুকরাটা সরাতে পারবে

তখন তুমি স্পষ্ট দেখতে পাবে কিভাবে তোমার তোমর ভাইয়ের চোখ থেকে ছোট টুকরাটা সরাতে হবে।”

 

২৭

যীশু বললেন, “যদি তুমি পৃথিবীর মতো দ্রুত না হও, তুমি স্বর্গ রাজ্য দেখতে পাবে না।

যদি তুমি সাবাত কে সাবাত হিসেবে পালন না করো,

তবে তুমি পিতাকে দেখতে পাবে না।”

 

২৮

যীশু বলেছেন,

“ আমি আমার জায়গা করে নেব পৃথিবীর মাঝখানে

আর আমি তাদের সামনে হাজির হবো রক্ত মাংশের শরীর নিয়ে।

আমি তাদের সবাইকে মাতাল অবস্থায় দেখবো।

আমি তাদের কাউকে তৃষ্ণাত্ব দেখবো না।

আমার আত্মা কষ্টপাবে মানব সন্তানদের দেখে,

কারণ তারা তাদের হৃদয়ে অন্ধ থাকবে,

তারা দেখতে পাবে না যে,

এই পৃথিবীতে তারা শূণ্যহাতে এসেছিল

এবং আবার তারা শূণ্যহাতে পৃথিবী ত্যাগ করতে যাচ্ছে।

এখন তারা মাতাল।

যখন তাদের মদের নেশা কেটে যাবে, তারা বিলাপ করবে। “

 

২৯

যীশু বলেছেন,

“যদি আত্মায় জন্য শরীর প্রস্তুত করা হয়

তবে তা এক বিস্ময়কর বিষয়।

কিন্তু যদি দেহের জন্য আত্মা প্রস্তুত করা হয়ে থাকে

তবে তা বিস্ময়ের বিস্ময়।

আমার ক্ষেত্রে আমি বিস্মিত হই এই ভেবে যে, এই বিশাল সম্পদ বাস করছে

দারিদ্রতার মধ্যে।”

 

৩০

যীশু বলেছেন, “কোথায় আছে তিন উপাস্য,

তারা স্বর্গীয়

কোথায় আছে দুই বা এক,

আমি তাদেরই একজন।”

 

৩১

যীশু বলেছেন,

“কোন নবী তার নিজ এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা পায় না।

কোন চিকিৎসই সে রোগীকে সারাতে পারে না, যে চিকিৎসক কে জানে।”

 

৩২

যীশু বলেছেন,

“সুউচ্চ পাহাড়ের উপর তৈরী শহর যা সুরক্ষিত তা পড়ে যায় না

তাকে লুকানও যায় না।”

 

৩৩

যীশু বলেছেন,

“যা তুমি তোমার নিজ কানে শুনেছো

তা অন্যের কানে পৌঁছে দেবার জন্য ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ কর।

কেউ প্রদীপ জ্বালিয়ে তা ঢেকে রাখে না

বা তা লুকিয়ে রাখে না।

বরং সে প্রদীপ স্ট্যান্ডে রাখে

যেন যারা আসা যাওয়া করছে তারা সকলে তার আলো দেখতে পায়।

 

৩৪

যীশু বলেছেন,

“যদি একজন অন্ধ অন্য অন্ধকে পথ দেখাতে যায় তবে

তারা উভয়ে খাদে পড়ে যাবে।”

 

৩৫

যীশু বলেছেন,

“একজন বলশালী মানুষের গৃহে প্রবেশ

ও তা তছনছ করা যায় না সে ব্যক্তির হাত না বেঁেধ

বা তাকে বাড়ীর বাইরে না নিয়ে।”

 

৩৬

যীশু বলেছেন,

“কি পরিধান করবে তা নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা আর সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত

দুঃশ্চিন্তা করা করো না ।”

 

৩৭

তাঁর শিষ্যগণ বলেছিলেন,

“আপনি কবে আমাদের কাছে আত্মপ্রকাশ করবেন

আর কখন আমরা আপনাকে দেখবো?”

 

যীশু বললেন,

“যখন তোমরা পোশাক খুলে ফেলবে কোন লজ্জ্বা ছাড়াই,

ছোট শিশুর মতো পোশাকের নিয়ে তার উপর তোমাদের পা রেখে হাঁটবে,

তখন তোমরা জীবন্ত এক-এর সনত্দানকে দেখবে

এবং তোমরা ভীত হবে না।”

 

৩৮

যীশু বলেছেন,

“তোমরা যা অনেকবার শুনতে চেয়েছ তা আমি তোমাদের বলছি,

তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তা বলতে পারে,

এমন দিন আসবে যখন তোমরা আমার অন্মেষণ করবে

কিন্তু আমাকে পাবে না।”

 

৩৯

যীশু বলেছেন,

“ফরেশী ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা জ্ঞানের চাবি নিয়েছে

এবং তা লুকিয়ে ফেলেছে।

তারা নিজেরা সেখানে প্রবেশ করবে না,

অপর কাউকে প্রবেশ করতে দেবে না

যে প্রবেশ করতে চায়।

তোমাদের হতে হবে সাপের মতো সর্তক এবং ঘুঘুর মতো নিষ্পাপ।”

 

 

 

৪০

যীশু বলেছেন,

“পিতার একটি গুজব বাইরে ছড়িয়েছে,

যা স্পষ্ট নয়।

তা সমূলে উৎপাটন ও ধ্বংস করতে হবে।”

 

৪১

যীশু বলেছেন,

“যার হাতে কিছু রয়েছে তাকে আরও প্রদান করা হবে

যার কিছু নেই তাকে বঞ্চিত করা হবে

তার সামান্য যা কিছু রয়েছে তা থেকে।”

 

৪২

যীশু বলেছেন,

“অগ্রবর্তী দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হও।”

৪৩

তার শিষ্যরা তাকে বললেন,

 “তুমি কে, এ সকল বিষয় তুমি আমাদের বলছো কেন?”

 

যীশু তাদের বললেন,

“ তোমরা বুঝতে পারছো না

আমি কে,

আমি কি বিষয়ে তোমাদের বলছি,

কিন্তু তোমারা হয়েছো ইহুদীদের মতো,

যারা গাছকে ভালবাসে কিন্তু তার ফলকে ঘৃণা করে

বা ফলকে ভালবাসে কিন্তু গাছকে ঘৃণা করে।”

 

৪৪

যীশু বলেছেন,

“যখন কেউ পিতার সম্পর্কে অসম্মান করে কথা বললে

তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে,

কেউ পুত্রের সম্পর্কে অসম্মান করে কথা বললে

তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে

কিন্তু যখন কেউ পবিত্র সত্ত্বার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে ক্ষমা করা হবে না

পৃথিবীতেও না স্বর্গেও না।”

 

৪৫

যীশু বলেছেন,

“কাঠের গাছে আঙ্গুর হয় না,

ঘাসের জঙ্গল থেকে ফিগ (এক ধরনের রসাল ফল) পাওয়া যায় না,

তাতে ফল ধরে না।

একজন ভাল মানুষ ভাল বের করে তার সংরক্ষানাগার থেকে,

একজন মন্দলোক তার খারাপ জিনিষগুলি বের করে

তার হৃদয়ে থাকা মন্দের আধার থেকে

আর বলে মন্দ বিষয়ে।

সে হৃদয়ের বাইরে গেলেও

সে বহন করে মন্দ বিষয়গুলি।”

 

৪৬

যীশু বলেছেন,

“নারীর সনত্দানদের ভেতর আদম থেকে জন মহান জন ব্যাপ্তিষ্ট

পর্যন্তদের মধ্যে মহান জনের মতো শ্রেষ্ঠতর কেউ নেই।

তাঁর চোখ দু'টি নিম্নবর্তী হতো না।

তারপরও আমি বলবো, তোমাদের মধ্যে যে কেউ পরিণত হয় শিশুতে

যখন সে রাজ্যের সাথে পরিচিত হয়

এবং জনের চাইতে শ্রেষ্ঠতে পরিণত হয়।”

 

৪৭

যীশু বলেছেন,

“একজন মানুষের পক্ষে একসঙ্গে দুই ঘোড়ায় চড়া সম্ভভ নয়, সম্ভব নয় একসাথে দুই ধনুক ব্যবহার করা।

একজন দাসের পক্ষে সম্ভব নয় দুই প্রভুর সেবা করা করা,

একজন তাকে পরস্কৃত করবে অন্যজন তাকে তিরস্কার করবে।

কোন ব্যক্তি পুরাতন মদ পান করামাত্র

নতুন মদ পান করতে চায় না।

নতুন মদকে কেউ পুরাতন মদের সাথে মেশায় না,

কেউ যদি তা করে তবে সেটা নষ্টই হয়।

পুরাতন বস্ত্রে কেউ নতুন বস্ত্র লাগিয়ে সেঁলাই করে না

কারণ তার ফলাফল হয় অশ্রুজল।

 

৪৮

যীশু বলেছেন,

“দুই ব্যক্তি যদি একে অন্যের সাথে একটি ঘোড়ার বিষয়ে আপোষ করতে চায়।

তাদের পাহাড়কে বলতে হবে দূরে সরে যাও

এবং তা দূরে সরে যাবে।”

 

৪৯

যীশু বলেছেন,

“নির্জনতা ও তাকে বেছে নেওয়া পবিত্রতা

এর মাধ্যমে তুমি পাবে রাজ্যকে।

যেখান থেকে তুমি এসেছো

এবং যেখানে তুমি ফিরে যাবে।”

 

৫০

যীশু বলেছেন,

“যদি তারা তোমাকে বলে 'তুমি কোথায় থেকে এসেছো?'

তাদের বলো, ' আমরা এসেছি আলো থেকে,

সে স্থান যেখানে আলো তৈরী হয়

ও নিজের আকৃতি গোপন করে।

'যদি তারা তোমাকে বলে 'তুমি কে?'

বলো, ' আমরা তার সন্তান, আমরা নির্বাচিত হয়েছি জীবন্ত পিতার দ্বারা।'

যদি তারা জিজ্ঞাসা করে, 'তোমার পিতার কি চিহ্ন রয়েছে তোমার মধ্যে?'

তাদের বলো, ' তা রয়েছে চলাফেরা ও বিশ্রামে।”

 

৫১

তাঁর শিষ্যগণ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো,

“কখন মৃতেরা সাড়া দেবে

আর কখন নতুন বিশ্ব আসবে?”

 

তিনি তাদের বললেন,

“তোমরা যার জন্য অপেক্ষা করতো তা ইতিমধ্যে এসেছে,

কিন্তু তোমরা তা চিনতে পারছো না।”

 

৫২

তাঁর শিষ্যগণ তাকে বললো,

“চব্বিশ জন নবী ইজরাইলীদের ছিল,

তারা প্রত্যেকে তোমার মতো বলে গেছে।”

 

তিনি তাদের বললেন,

“তোমরা জীবন্ত উপস্থিত একজনকে ভুলে গেছ

আর বলছো (কেবলমাত্র) মৃতদের সম্পর্কে।”

 

৫৩

তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললো,

“লিঙ্গমুখের ত্বক ছেদন কি উপকারী?”

তিনি তাদের বললেন,

“যদি তা উপকারী হতো তবে তাদের পিতাই সনত্দানদের ত্বকচ্ছেদ করে

মায়ের নিকটে পাঠাতেন

বরং সত্যিকার আত্মার ত্বকচ্ছেদ করা

অধিকতর উপকারী।”

 

৫৪

যীশু বলেছেন,

“দরিদ্রদের করুণা করা

তোমাদের কাছে স্বর্গরাজ্য স্বরূপ।”

 

৫৫

যীশু বলেছেন,

“কারও পিতা ও মাতার প্রতি ঘৃণা না থাকলে

আমার অনুসারী হতে পারবেনা,

এবং কেউ ভ্রাতা ও ভগ্নিকে ঘৃণা না করে

আমার মতো সীমানা অতিক্রম না করা পর্যন্ত

আমার কাছে মূল্যবান বলে বিবেচিত হবে না।”

 

৫৬

যীশু বলেছেন,

“যখন কেউ পৃথিবীকে জানে

সে দেখে এটি একটি মৃতদেহ বিশেষ

এবং সে তখন দেখে এটি মৃতদেহ

তখন পৃথিবী তার কাছে মূল্যবান বলে বিবেচিত হয় না।”

 

৫৭

যীশু বলেছেন,

“পিতার রাজ্য সে মানুষের মতো যার রয়েছে বীজ।

তার শক্র রাতে এসে ভাল বীজের মধ্যে আগাছার বীজ বপন করে যায়।

এ লোক (তার ভৃত্যদের) আগাছা বীজ তুলে ফেলতে নিষেধ করে।

সে তাদের বলে,

‘আমি ভয় পাচ্ছি যে,

তোমরা আগাছার বীজ তুলতে গিয়ে গম বীজ তুলে ফেলবে।

শষ্যের দিনে আগাছাকে চেনা যাবে

তখন তাদের তুলে ফেলা ও পুড়িয়ে ফেলা হবে।'

 

৫৮

যীশু বলেছেন,

“করুণা দেখাও যারা পরিশ্রম করে তাদের প্রতি

ও জীবনকে দেখো।”

 

৫৯

যীশু বলেছেন, “ জীবিত একজনের প্রতি তোমরা মনোযোগী হও-- যতক্ষণ জীবিত আছো। বরং তুমি মৃত্যুর পর তাকে দেখতে চাইলেও তা পারবেনা।”

 

৬০

তারা দেখলো একজন সামারিটান একটি মেষশাবক নিয়ে যাচ্ছে, সে জুডিয়ার দিকে যাচ্ছিল। তিনি (যীশু) তাঁর শিষ্যদের বললেন, “এ মেষশাবক দিয়ে এই লোক কি করবে?”

তারা তাকে বললো, “ সে এটা হত্যা করবে ও ভক্ষণ করবে।”

তিনি তাদের বললেন, “যতক্ষণ এটা জীবন্ত ততক্ষণ এটা ভক্ষণ করবে না, কিন্তু যখন সে এটা হত্যা করবে ও এটা মৃত দেহে রূপান্তরিত হবে (তখন সে তা ভক্ষণ করবে)।”

তারা তাকে বললো,  “এভাবে না করলে তো সে তা পারবে না।”

তিনি তাদের বললেন, “তোমরাও তোমাদের নিজেদের জন্য একটি বিশ্রামের জায়গা বের করো। যেন তোমরা মৃতদেহ ও খাদ্যে রূপান্তরিত না হও।”

 

৬১

যীশু বললেন, “ শষ্যায় শায়িত দুই জনের একজন মারা যাবে অন্য জন জীবিত হবে।”

যলোমী তাকে বললো, “ কে আপনি, আগন্তুক, কোথায় থেকে এসেছেন, আপনি আমার চেয়ারে বসেছেন আর আমার টেবিল থেকে খাচ্ছেন?”

যীশু তাকে বললেন, “আমি হলাম সেই যে এসেছে (অখন্ড) একজনের কাছ থেকে যে ও আমি এক। আমাকে প্রদান করা হয়েছে পিতার কিছু জিনিষ।”

(সলোমী বললো), “ আমি তোমার নারী শিষ্য।”

(যীশু তাকে বললেন), “ সে জন্য আমি বলছি, যখন কোন ব্যক্তি নিজেকে দেখে অখন্ড সে হয় আলোয় পূর্ণ। আবার যখন সে বিভক্ত হয় তখন সে হয় অন্ধকারে পূর্ণ।”

 

৬২

যীশু বলেছেন, “ আমি তাদের কাছে উন্মুক্ত করি আমার রহস্যগুলি (যাদের আমার উপযুক্ত বলে মনে হয়) রহস্যের জন্য। তোমার ডান হাত কি কাজ করছে তা বাম হাতকে জানতে দিওনা।”

৬৩

যীশু বললেন, “ একজন ধনী ব্যক্তি যার অনেক অর্থ রয়েছে, সে বললো, ' আমি আমার সম্পদ ব্যয় করবো বীজ বপন ও শষ্য উৎপাদন করে গোলাঘর ফসলে পূর্ণ করার জন্য, যেন আমার কোন অভান না থাকে।' এ রকম ভাবে সে মনে মনে ভেবেছিল কিন্তু সে রাতেই সে মারা গেল। যার কান আছে তাকে শুনতে দাও।

 

৬৪

যীশু বলেছেন, “একজন মানুষের কাছে অতিথিরা এলো। যখন সে নৈশভোজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে তার ভৃতকে পাঠালো তাদের খাবারের জন্য ডাকতে। সে অতিথিদের প্রথম জনের কাছে গেল ও বললো,

'আমার প্রভু আপনাকে খাবারের জন্য ডাকছেন,'

সে বললো, ' কিছু ব্যবসায়ীর কাছে আমার টাকা পাওয়া আছে, তারা আমার কাছে আজ সন্ধ্যায় আসবে। আমাকে অবশ্যই যেতে ও তাদের নির্দেশ দিতে হবে। আমাকে নৈশভোজ থেকে বাদ দিতে বলো।'

সে অপর জনের কাছে গেল এবং বললো, ' আমার প্রভু আপনাকে খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।'

সে তাকে বললো, ' আমি একটি বাড়ী কিনলাম, এর পিছনে আমার সারাদিন ব্যয় করতে হবে, আমার সময় নেই।'

সে অপর একজনের কাছে গেল এবং বললো, ' আমার প্রভু আপনাকে রাতে খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।'

সে ভৃত্যকে বললো, 'আমার বন্ধু বিয়ে করতে যাচ্ছে আর আমি তার জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করছি। আমি আসতে পারবো না, আমাকে বাদ দিতে বলো।'

ভৃত্য অপর একজনের কাছে গেল ও তাকে বললো, 'আমার প্রভু আপনাকে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।'

সে বললো, 'আমি এখনি একটি গ্রাম কিনলাম আর আমি এখন যাচ্ছি সেখানে কর আদায় করতে। আমি আসতে পারবো না, আমাকে অব্যাহতি দিতে বলো।'

ভৃত্য ফিরে গেল আর তার প্রভুকে বললো, ' আপনি যাদের নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাদের কেউ আসতে সম্মত হয় নাই।'

প্রভু ভৃত্যকে বললো, 'বাইরের রাস্তায় যাও আর যার সাথে দেখা হবে তাকেই নিয়ে এসো যে খেতে রাজী আছে।'

ব্যবসায়ী ও দোকানীরা আমার পিতার ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না।”

 

৬৫

তিনি বললেন,

“একজন ভাল মানুষের একটি আঙ্গুর ক্ষেত ছিল। সে কৃষকদের তা বন্ধক দিল

এই ভেবে যে, তারা সেখানে কাজ করবে আর সে সেখান থেকে ফসল পাবে।

সে কৃষকদের কাছে তার ভৃত্যকে পাঠালো

ক্ষেত্রের ফসল সংগ্রহের জন্য। তারা তাকে ধরে প্রহার করে প্রায় মুমূর্ষু করে ফেলে।

ভৃত্য ফিরে এসে তা তার প্রভুকে জানায়।

ক্ষেত মালিক বললো,

'তারা সম্ভবত তাকে চিনতে পারে নাই।'

সে অপর এক ভৃত্যকে পাঠালো। কৃষকেরা তাকেও প্রহার করে।

এর পর মালিক তার ছেলেকে পাঠায় এবং বলে,

'নিশ্চয় তারা আমার সন্তানের প্রতি সম্মান দেখাবে।'

কৃষকেরা আঙ্গুর ক্ষেতের উত্তরাাধিকারী হিসেবে তাকে চেনা সত্ত্বেও

তাকে ধরে হত্যা করে।

তাকে শুনতে দাও যার কান রয়েছে।

 

৬৬

যীশু বলেছেন,

“আমাকে দেখাও সেই পাথর দেখাও যা নির্মাতারা ফেলে রেখে গেছে।

সেটা হবে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর।”

 

৬৭

যীশু বলেছেন,

“যে সব কিছু জানে কিন্তু নিজেকে জানতে ব্যর্থ হয়,

তার জানা সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।”

 

৬৮

যীশু বলেছেন,

“পুরস্কৃত করা হবে তোমাদের যারা ঘৃণিত এবং অত্যাচারিত হচ্ছো।

সে স্থানে তাদের কোন অবস্থান থাকবে না

তোমাদের নির্যাতন করার জন্য।”

 

৬৯

যীশু বলেছেন,

“তাদের পুরস্কৃত করা হবে যারা হৃদয়ে যন্ত্রণা অনুভব করেছে।

এর দ্বারা তারা সত্যিকারভাবে পিতাকে জেনেছে।

তাদের পুরস্কৃত করা হবে যারা পেটে ক্ষুধা অনুভব করেছে,

তাদের আকাঙ্খাও পূর্ণ করা হবে।”

 

৭০

যীশু বলেছেন,

“তোমার ভেতরে যা রয়েছে তার যদি বিকাশ ঘটাও তা তোমাকে রক্ষা করবে।

তোমার ভেতরে যা রয়েছে তা যদি বাইরে না আনো

তবে তোমার ভেতরে যা নেই তা তোমাকে ধ্বংস করবে।”

 

৭১

যীশু বলেছেন,

“আমি এই এই ভবন ধ্বংস করবো

এবং কেউ তা পুননির্মাণ করতে পারবে না।”

 

৭২

একজন মানুষ তাকে বললো,

“আমার ভাইদের বলুন আমার পিতার সম্পদ যেন আমার সাথে ভাগ করে।”

তিনি তাকে বললেন,

“হে আমার শিষ্য, কে আমাকে মীমাংসা করার অধিকার দিয়েছে?”

 

তিনি তার শিষ্যদের দিকে তাকালেন ও বললেন,

“আমি কোন মীমাংসাকারী নই, তাই নয় কি?”

 

৭৩

যীশু বলেছেন,

“ফসল হয়েছে অনেক কিন্তু শ্রমিক কম,

কাজেই প্রার্থনা করো ঈশ্বরের কাছে ফসলের জন্য যেন শ্রমিক পাঠায়।”

 

৭৪

তিনি বললেন,

“হে ঈশ্বর, পানীয় জলের জন্য অনেকে পাত্র ঘিরে রয়েছে

কিন্তু পাত্রে কোন জল নেই।”

 

৭৫

যীশু বলেছেন,

“অনেকে দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছে,

কিন্তু মাত্র একজন প্রবেশ করবে বরের ঘরে।”

 

৭৬

যীশু বলেছেন,

“পিতার রাজ্য সেই বণিকের মতো

যে অনেক মালামাল কিনে পূর্ণ করার পর আবিস্কার করে যে কেনার জন্য একটি মুক্তা রয়েছে।

বণিক ছিল বুদ্ধিমান

সে সমস্ত পণ্য বিক্রি করে শুধুমাত্র মুক্তা কেনে

নিজের জন্য।

তোমরাও অনুসন্ধান কর তার স্থায়ী সম্পদের

যা অবিনশ্বর,

কোন কীট আসেনা যা খেতে এবং কোন পতঙ্গ আসেনা যা ধ্বংস করতে।”

 

৭৭

যীশু বলেছেন,

“আমি হলাম সেই আলো যা সবার উপরে।

আমি হলাম সমগ্র।

সব কিছুই আমার থেকে নির্গত

এবং সব কিছুই আবার আমার নিকটে ফিরে আসবে।

একটি কাঠখন্ড ভাঙ্গ

আমাকে সেখানে পাবে।

একটি পাথর উত্তোলন কর

সেখানেও আমাকে দেখবে।”

 

৭৮

যীশু বলেছেন,

“তোমরা গ্রামে কেন এসেছ?

দেখতে বাতাসে নলখাগড়ার কম্পন?

না রাজা আর সভাসদদের মতো ক্ষমতাশালী মানুষ দেখতে

যারা সুন্দর পোষাক পরে থাকে

কিন্তু সত্য বুঝতে পারে না।”

 

৭৯

ভীড়ের মধ্য থেকে এক নারী তাকে বললো,

“আর্শীবাদ করি সেই পবিত্র হলো গর্ভকে যা তোমাকে ধারন করেছে

ও সেই স্তনকে যা তোমাকে খাবার দিয়ে বড় করেছে।”

 

তিনি তাকে বললেন,

“আর্শীবাদ করো তাকে

যে পিতার কথা শুনেছে ও সত্যিকারভাবে তা সংরক্ষণ করেছে।

এমন দিন আসবে যখন তোমরা বলবে,

“পবিত্র হলো সেই গর্ভ যা সন্তান ধারন করে না

আর সে স্তন যা দুধ প্রদান করে না।”

 

৮০

যীশু বলেছেন,

“যে পৃথিবীকে চেনে

সে শরীর আবিস্কার করেছে।

কিন্তু যে শরীর আবিস্কার করেছে

সে জানে পৃথিবী মূল্যবান নয়।”

 

৮১

যীশু বলেছেন,

“যে ধনী হয়েছে তাকে শাসন করতে দাও,

যার ক্ষমতা আছে তাকে তা ত্যাগ করতে দাও।”

 

৮২

যীশু বলেছেন,

“যে আমার কাছে রয়েছে সে অগ্নিকুন্ডের কাছে রয়েছে,

যে আমার থেকে দূরে রয়েছে সে রাজ্য থেকে দূরে রয়েছে।”

 

৮৩

যীশু বলেছেন,

“মানুষের প্রতিচ্ছবি দৃশ্যমান হয়

কিন্তু তার ভেতরের আলো লুকিয়ে থাকে

পিতার প্রতিচ্ছবির আলোতে।

সে হয় দৃশ্যমান

কিন্তু তার প্রতিচ্ছবি গোপন থাকে আলোতে।”

 

৮৪

যীশু বলেছেন,

“যখন তোমরা তোমাদের চেহারা দেখ, তোমরা খুশী হও।

কিন্তু যখন তোমরা তোমাদের প্রতিচ্ছবি দেখো যা তোমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়,

যার মৃত্যু নেই, যা দৃশ্যমান নয়,

কিভাবে তা তোমরা গ্রহণ কর।”

 

৮৫

যীশু বলেছেন,

“আদম এসেছিল মহান শক্তি ও বিশাল সম্পদ থেকে।

কিন্তু সে তোমাদের কাছে মূল্যবান নয়।

যদি সে মূল্যবান হতো

তবে সে মৃত্যুর স্বাদ নিতো না।”

 

৮৬

যীশু বলেছেন,

“ শেয়ালের রয়েছে গর্ত, আর পাখীর রয়েছে নীড়,

কিন্তু মানব পুত্রের কোন স্থান নেই তার মাথা রাখা বা বিশ্রামের জন্য।”

 

৮৭

যীশু বলেছেন,

“ শরীরের দুর্ভাগ্য যে তা শরীরের উপর নির্ভর করে

আর আত্মার দুর্ভাগ্য যে তা এই দুইটির উপর নির্ভর করে।”

 

৮৮

যীশু বলেছেন,

“দেবদূত ও নবীরা আসবে তোমাদের কাছে

আর তারা তোমাদের প্রদান করবে যা তোমাদের প্রাপ্য।

তোমরাও তাদের প্রদান করবে সে সকল জিনিষ যা তোমাদের রয়েছে, আর তোমরা নিজেরা বলবে,

'তারা কখন আসবে আর গ্রহণ করবে যা তাদের বিষয়?'

৮৯

যীশু বলেছেন,

 “তোমরা শুধু পাত্রের বাইরের দিক পরিস্কার করছো কেন?

তোমরা কেন বোঝনা ভিতরের দিক যে তৈরী করেছে

সে বাহিরের দিকও তৈরী করেছে?”

 

৯০

যীশু বলেছেন,

“ আমার কাছে এসো, আমার বোঝা বহন করা আরামদায়ক, আমার প্রভু নম্র,

আর তোমরা নিজেদের জন্য বিশ্রামও পাবে।”

 

৯১

তারা তাকে বললো,

“ আমাদের বলো তুমি কে, যেন আমরা তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি।”

 

তিনি তাদের বললেন,

“তোমরা আকাশ ও পৃথিবীর চেহারা পড়তে পারো,

কিন্তু তোমরা এমন একজনকে চিনতে পারছোনা যে তোমাদের সামনে আছে

এবং তোমরা জানছো না কি ভাবে সময়কে চিনতে হবে।”

 

৯২

যীশু বলেছেন,

 “ খোঁজ, তোমরা পাবে।

যে সকল বিষয়ে তোমরা আমাকে পূর্বে জিজ্ঞাসা করেছিলে কিন্তু আমি তার জবাব দেই নাই।

এখন আমি তা তোমাদের বলতে আগ্রহী কিন্তু তোমরা তার জবাব খুঁজছো না।”

৯৩

(যীশু বলেছেন)

“ পবিত্র কিছু কুকুরদের দিওনা,

তারা তা আবর্জনায় নিক্ষেপ করবে।

মুক্তা শূকোরকে দিওনা,

তারা তা দিয়ে ---- (কি করবে।)”

 

৯৪

যীশু (বলেছেন),

“যে খুঁজবে সে পাবে,

যে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে, তার জন্য দরজা খুলে যাবে।”

 

৯৫

(যীশু বলেছেন),

“যদি তোমার টাকা থাকে তা সুদের আশায় খাটিও না

বরং তা এমন একজনকে ঋণ হিসেবে দাও

যার কাছ থেকে তা ফেরৎ পাবে না।”

 

৯৬

যীশু বলেছেন,

“পিতার রাজ্য একজন নারীর মতো,

যে মাখানো সামান্য ময়দার মধ্যে ঢুকে তাকে ফুলিয়ে

বড় রুটিতে পরিণত করে।

যার কান আছে তাকে শুনতে দাও।”

 

 

৯৭

যীশু বলেছেন,

“পিতার রাজ্য এমন যেন এক মহিলা পাত্র ভর্তি করে খাবার নিয়ে যাচ্ছে।

যখন সে বাড়ী থেকে অল্প দূরে রাস্তায়

পাত্রের হাতল ভেঙ্গে গেল,

সব খাবার মহিলার পেছনে রাস্তায় পড়ে গেল।

সে বুঝতে পারলো না

যে দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।

সে বাড়ীতে পৌঁছে পাত্র খুলে

দেখতে পেল তা ফাঁকা।”

৯৮

যীশু বলেছেন,

“পিতার রাজ্য এমন যেন

এক ব্যক্তি অপর এব শক্তিশালী ব্যক্তিকে হত্যা করতে চায়।

সে তার নিজের বাড়ীতে তরবারী বের করে

তা দেওয়ালে বিধে অভ্যাস করলো

যেন তার হাত ঠিক হয়।

তারপর সে বলশালী লোককে হত্যা করলো।”

 

৯৯

শিষ্যরা তাকে বললো,

“আপনার ভ্রাতারা ও মাতা বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।”,

তিনি তাদের বললেন,

“এখানে যারা আমার পিতার ইচ্ছা পূরণ করবে

তারাই আমার ভ্রাতা ও মাতা।

তারাই আমার পিতার রাজ্যে প্রবেশ করবে।”

 

১০০

তারা যীশুকে একটি স্বর্ণ মুদ্রা দেখিয়ে বললো,

“সীজারের প্রতিনিধি আমাদের কাছে টাক্স দাবী করছে।”

 

তিনি তাদের বললেন,

“সীজারের যা প্রাপ্য তা সীজারকে দাও,

ঈশ্বরের যা প্রাপ্য তা ঈশ্বরকে দাও

আর আমি যা চাই তা আমাকে দাও।”

 

১০১

(যীশু বলেছেন),

“যে কখনও তার পিতা ও মাতাকে ঘৃণা করেছে আমার মতো

 সে কখনও আমার (শিষ্য) হতে পারবে না

এবং যে কখনও তার পিতা ও মাতাকে ভালবেসেছে আমার মতো

সে আমার (শিষ্য) হতে পারবে না।

 

আমার মার জন্য (----),

কিন্তু আমার সত্যিকার (মা), দিয়েছে আমাকে জীবন।”

 

১০২

যীশু বলেছেন,

“ ফিরোশীদের প্রতি অভিশাপ বর্ষিত হোক,

কারণ তারা কুকুরের মতো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তাকিয়ে আছে গরুর খাবারের বাক্সের দিকে,

যা সে খেতে পারবেনা আর গরুকেও খেতে দেবে না।”

 

১০৩

যীশু বলেছেন,

“সেই হলো সৌভাগ্যবান যে জানে রাতে কোন সময়ে দস্যুরা হানা দেবে,

তাতে সে জেগে থাকতে পারবে, জমা করে রাখবে (তার অস্ত্র -শস্ত্র)

এবং সে নিজেকে সশস্ত্র করে রাখবে তারা আসা আগেই।

 

১০৪

তারা বললো (যীশুকে),

“এসো, আজকে আমরা প্রার্থনা করি এবং প্রথমে তা করি।”

 

যীশু বললেন,

“আমি কি পাপ করেছি,

আর আমার কি ক্রটি হয়েছে ?

যখন বর বাসরঘর ত্যাগ করে

তখন তাকে প্রথমে প্রার্থনা করতে বলা হয়।”

 

১০৫

য়ীশু বলেছেন,

“সে যে জানে তার পিতা ও মাতাকে

তাকে বলা যেতে পারে পতিতার সন্তান।”

 

১০৬

যীশু বলেছেন,

“যখন তোমরা দুইকে এক করতে পারবে,

তখন তোমরা হবে মানুষের পুত্র,

এবং তখন যদি বলো, 'পাহাড় সরে যাও,

তা সরে যাবে।”

 

১০৭

যীশু বলেছেন,

“রাজ্য হলো মেষ পালকের মতো

যার রয়েছে একশতটি মেষ।

এদের মধ্যে যখন বলশালী একটা বিপথগামী হয়

তার নিরানব্বইটি মেষ ছেড়ে সে একটার পিছনে ছোটে তা দৃষ্টির আড়াল না হওয়া পর্যন্ত

অনেক সমস্যার পর সে সেই মেষকে বলে,

“অন্য নিরানব্বইটির চাইতে আমি তোমাকে বেশী যতœ করেছি।”

 

১০৮

যীশু বলেছেন,

“যে আমার মুখ থেকে নিয়ে পান করবে সে হবে আমার মতো,

আমিও হবো তার মতো

এবং যা রহস্যাবৃত রয়েছে তা তার কাছে উন্মোচিত হবে।”

 

১০৯

যীশু বলেছেন,

“রাজ্য হরো একজন লোকের জমির মতো যাতে গুপ্তধন রয়েছে

কিন্তু সে তা জানে না। সে মৃত্যুবরণ করতো তা পুত্রের জন্য রেখে।

পুত্র তা জানে না (গুপ্তধন সম্পর্কে),

সে জমি পেয়ে তা বিক্রি করে দিল।

যে জমি ক্রয় করলো সে জমিতে লাঙ্গল দিতে গিয়ে ধন পেল।

সে সেই অর্থ সুদে ধার দেওয়া শুরু করলো তার তার পছন্দ মতো লোকদেরকে।”

 

১১০

যীশু বলেছেন,

“যে পৃথিবীকে খুঁজে পেয়েছে

ও ধনী হয়েছে,

তাকে পৃথিবী ত্যাগ করতে দাও।”

 

 

১১১

যীশু বলেছেন,

“স্বর্গ ও পৃথিবী তোমাদের উপস্থিতিতে খুলে দেওয়া হবে।

এখানে যারা বাস করছে ও সে বাস করবে তারা মৃত্যুবরণ করবে না।

 

যীশু কি বলেন নাই,

'যে নিজেকে খুঁজে পায়

তার কাছে পৃথিবী মূল্যবান নয়।”

 

১১২

যীশু বলেছেন,

“দেহের কষ্ট নির্ভর করে আত্মার উপর,

আত্মার কষ্ট নির্ভর করে দেহের উপর।”

 

১১৩

তার শিষ্যরা তাকে জিজ্ঞাসা করলো,

“যখন রাজ্য আসবে?”

 

(যীশু বললেন),

“তা আসবে না কারণ তোমরা তার জন্য অপেক্ষা করছো।

কেউ বললে পারবে না, ' দেখ,এটা এখানে,’

 অথবা, ‘দেখ তা ওখানে।’

বরং পিতার রাজ্য সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে আছে,

আর তা মানুষ দেখতে পাচ্ছে না।”

 

১১৪

সিমন পিটার তাকে বললো,

“আমাদের মধ্য থেকে মেরী চলে যাক,

নারীরা জীবনে মূল্যবান নয়।”

 

যীশু বললেন,

“দেখ, আমি তাকে উৎসাহিত করবো পুরুষ হবার জন্য,

যেন সে তোমাদের মতো জীবন্ত পুরুষ সত্ত্বা বিশিষ্ট হয়।

প্রত্যেক নারী যে নিজেকে পুরুষের মতো করবে

সে স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ করবে।”

 

*****************************************

* ব্রাকেটে বর্ণিত অংশগুলো মূল পুস্তিকায় নেই। শ্লোকের মূলভাব উপলব্ধির জন্য তা সংযোজন করা হয়েছে।